অভিনেত্রী কবরীকে মূল্যায়ন করার মতো ধৃষ্টতা আমার নেই : আলমগীর

বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী কবরী আর নেই৷ ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনটে করোনার চিকিৎসা নেয়া অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। তার মৃত্যু সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোক নামিয়েছে। কিংবদন্তি এ অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকাহত তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী চিত্রনায়ক আলমগীরও।

এ অভিনেতা জানান, প্রায় ২৫টির মতো সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তারা। তাদের ‘লাভ ইন সিমলা’ সিনেমাটি প্রেমের সিনেমায় একটি মাইলস্টোন।আবেগী কণ্ঠে আলমগীর বলেন, ‘কবরীর সঙ্গে আমার ৫০ বছরের স্মৃতি। কোনটা রেখে কোনটা বলবো! প্রতিদিনি ঝগড়া হতো দুই-তিন বার করে, আবার মিলেও যেতাম। এরকম একটা বন্ধুত্ব ছিল ওনার সঙ্গে। অত্যন্ত স্নেহ করতেন। আমরা তিন জন একটা গ্রুপ ছিলাম। সত্তর দশকের কথা বলছি। আমি, চিত্রগ্রাহক মাহফুজ আর কবরী তিন জনের একটা গ্রুপ ছিল। আমরা খুব আড্ডা মারতাম একত্রে।

কবরীর বাসাতেই আড্ডা মারতাম। তারপর গাড়ি নিয়ে বের হতাম। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে খাওয়াতে নিয়ে যেতেন।’শুটিংয়ের স্মৃতি জানিয়ে বলেন, ‘একবার শুটিং করছি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে, হঠাৎ করে এসে বললেন, চলেন ঘুরে আসি। ওনার গাড়িতে উঠলাম। পরে তিনি ড্রাইভারকে বললেন চট্টগ্রাম চলো। অমি বললাম চট্টগ্রাম যাবো! অবাক হয়ে গেলোম। পরে গেলামও। পরদিন আবার এসে শুটিং করলাম। ‘আমার জন্মভূমি’ সিনেমার শুটিংয়ের স্মৃতি টেনে এনে আলমগীর আরও বলেন, আমরা তখন তো নতুন আর্টিস্ট। আমরা কোথায় থাকবো, কী করবো সব তো জানার কথা না। প্রোডাকশন থেকেও দেখতো না। তবে উনি কিন্তু সবারই খোঁজ খবর নিতেন।

‘আমার জন্মভূমি’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় আমাকে কোনো রুম দেয়া হয়নি। একটা বড় বারান্দা ছিল ওইটাতে খড় বিছিয়ে বিছানা করে ঘুমিয়েছিলাম। পরের দিন এটা উনি দেখলেন। দেখেই নিজে টাকা দিয়ে চকি, চাদর, বালিশ এনে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিলেন। এগুলো অসাধারণ ব্যাপার। এমন স্মৃতি অনেক আছে।’

‘মানুষ কবরীকে আমি মূল্যায়ন করতে চাই। কবরীর তুলনা কবরী নিজেই। তিনি সজ্জন ছিলেন৷ কিন্তু অভিনেত্রী কবরীকে মূল্যায়ন করার মতো ধৃষ্টতা আমার নেই’- কবরীর জন্য দোয়া চেয়ে বললেন আলমগীর।