কলকাতায় এলো বাংলাদেশের ইলিশ

কলকাতা: গত তিন বছরের মতো চলতি বছরও শারদীয়া উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে এলো বাংলাদেশের ইলিশ। প্রথম ধাপে বাজারে এসেছে সাড়ে আট হাজার কেজি (৮.৫ মেট্রিক টন) ইলিশ।একেকটা মাছের ওজন এক কেজি থেকে ১৮০০ গ্রাম, কোনটা দুই কেজির বেশি।মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি মাছের বাজার হাওড়া ফিস মার্কেটে এসেছে বাংলাদেশের ইলিশ। এখান থেকেই খুচরা ব্যবসায়ীর হাত ধরে ইলিশ পৌঁছে যাবে পশ্চিমবঙ্গবাসীর হেঁসেলে।হাওড়া মাছ আমদানিকারকের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার মাকসুদ বলেন, এই নিয়ে চার বছর পূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ উপহার দিচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ। আমরা প্রায় ১৫ দিন আগে বাংলাদেশ সরকারকে

ইলিশের জন্য আবেদন করেছিলাম। সেই মতো মোট ২৪৫০ মেট্রিক টন মাছ পাঠিয়েছে। প্রথম ধাপে সাড়ে আট টন মাছ আজকে বাজারে এসেছে। এইভাবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অবধি প্রতিদিন মাছ আসতে থাকবে।তিনি আরও বলেন, সাধারণত পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ উৎপাদন কম হয়। তবে এ বছর ভালো ইলিশ পাওয়া গিয়েছে। তবুও বাংলাদেশের ইলিশের স্বাদ ভালো হওয়ায় কলকাতায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে। তাই বাজারে বাংলাদেশের ইলিশ এলে আগে তা বিক্রি হয়।বাংলাদেশের ইলিশ আসতেই হাওড়ার পাইকারি বাজার থেকে অন্যান্য মাছ যেন উধাও। গোটা বাজার বাংলাদেশের ইলিশময়। পাশাপাশি চোখে পড়ার মতো ভিড় খুচরা মাছ ব্যবসায়ীদেরও।কলকাতার গড়িয়াহাটের খুচরা মাছ ব্যবসায়ী

সুজন বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য বারের মতো এ বছর ইলিশের আকাল নেই। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ইলিশ মাছের আলাদা আকর্ষণ থাকে। ফলে এই মাছ বাজারে নিয়ে বসার অপেক্ষা। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাবে।অপর মাছ ব্যবসায়ী বিক্রম দাস, ফুটবলে মোহনবাগান সাপোর্টার। তিনি বলেন, বাঙালির কাছে মাছের রাজা ইলিশ আর খেলাতে ফুটবল। এখন কলকাতায় ফুটবলের মৌসুম। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আর ইলিশ মাছ একে অপরের পরিপূরক। ইস্টবেঙ্গল জিতলেই আমার লক্ষ্মী লাভ কিছুটা বেশি হয়।পশ্চিমবঙ্গে এবারে যে ইলিশ মিলছে তার দাম খুচরা ১২০০ থেকে ১৮০০ রুপি। এরকমই দাম থাকবে বাংলাদেশের ইলিশের ক্ষেত্রে। বরং একটু বেশিই হবে। তাও পাইকারি বাজারে প্রথম ধাপে বাংলাদেশের ইলিশ

ঢুকতেই শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে গেছে।খুচরা ব্যবসায়ী ছাড়াও হাওড়ার পাইকারি মাছ বাজারে যে কেউ কমপক্ষে পাঁচ কেজি মাছ নিজের জন্য কিনতে পারেন। আর সে কারণেই খুচরা মাছ ব্যবসায়ীর পাশাপাশি এদিন ইলিশপ্রেমী বাঙালির দেখা মিলছে।উত্তর ২৪ পরগনার রানাঘাট থেকে এক মাছপ্রেমী বাঙালি প্রবীর দে সকাল সকাল চলে এসেছেন হাওড়ার পাইকারি মাছ বাজারে। তিনি বলেন, বাঙালি মানে মাছ প্রিয়। আর বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ তো সারা বছর পাওয়া যায় না। তাই এবার রিস্ক নেইনি। গতবার শেষ সময় এসে বাজারে বাংলাদেশের ইলিশ পাইনি।গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৪৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ আসার কথা ছিল। তবে সেবার সময় পার হয়ে যেতেই ভারতে এসেছিল মাত্র ১২০০

মেট্রিক্ট টন। যে কারণে অনেকেই শেষ সময় বাজার ঘুরে বাংলাদেশের ইলিশ চাইলেও খুঁজে পাননি। তাই প্রবীর দে’র মতো লোকেরা এবার আর দেরি করেননি।তবে এ বছর অনেক আগেই বাংলাদেশ থেকে ২৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫০ টন ইলিশ আনতে পারবে বলে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই রপ্তানি চালু থাকবে বলে জানা গেছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা।