জেলেনস্কির অনুরোধে সাড়া দেয়নি ফিফা

আর্জেন্টিনা-ফ্রান্সের মধ্যে আগামী রোববার (১৮ ডিসেম্বর) ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বৈশ্বিক শান্তির বিষয়ে ভাষণ দিতে চেয়েছিলেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিন্তু তার সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি ফিফা। সূত্রের বরাতে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।সূত্র বলেছে, কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে জেলেনস্কির ভাষণ প্রচারের প্রস্তাব দিয়েছিল ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের দপ্তর। কিন্তু ফিফা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় অবাক হয়েছে তারা।

ইউক্রেনীয় সূত্রটি সিএনএন’কে বলেছে, আমরা ভেবেছিলাম ফিফা তার প্ল্যাটফর্মকে বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করতে চায়। যদিও ইউক্রেন ও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মধ্যে এখনো কথাবার্তা চলছে।তবে জেলেনস্কি সরাসরি নাকি রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচার করতে চেয়েছিলেন তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।

ফিফার কাছে জেলেনস্কি প্রশাসনের এমন অনুরোধ অপ্রচলিত হলেও আশ্চর্যজনক নয়। সম্প্রতি জি২০ সম্মেলন থেকে শুরু করে গ্র্যামি ও কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো মঞ্চগুলোতে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে উপস্থিত হয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট। শন পেন, ডেভিড লেটারম্যানসহ বহু বিখ্যাত সাংবাদিকের কাছে সাক্ষাত্কারও দিয়েছেন তিনি। মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের ওপর বিশ্বের নজর ধরে রাখতে যেকোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ ব্যবহারের চেষ্টা করছে কিয়েভ।

তবে কাতার বিশ্বকাপ থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখতে সচেষ্ট ফিফা স্টেডিয়ামগুলোতে রাজনৈতিক বার্তা প্রচার নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি সমকামী অধিকারের প্রতীক হিসেবে সাতরঙা ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড পরলে ফুটবলারদের নিষিদ্ধ করারও হুমকি দিয়েছে সংস্থাটি।শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে রাজনৈতিক বার্তা দূরে রাখা হচ্ছে, যেন ফুটবলপ্রেমীরা ‘একটু আনন্দ ও খুশির মুহূর্ত’ উপভোগ করতে পারেন।

তিনি বলেন, এটি নিষিদ্ধ করার বিষয় নয়। এটি নিয়মকানুনকে সম্মান করার বিষয়। খেলার মাঠে আমরা ফুটবল খেলি। ভক্তরা অন্য কিছু চিন্তা না করে এই ৯০, ১০০ বা ১২০ মিনিট কাটাতে চান।ফিফা প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের এসব লোককে এমন একটি সময় দিতে হবে, যেখানে তারা সব সমস্যা ভুলে ফুটবল উপভোগ করতে পারেন। ম্যাচের বাইরে যে কেউ তার মতামত প্রকাশ করতে পারবে।