ফের নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারবেন ৯০ বছরের বৃদ্ধা মাকচাঁন

নব্বই বছরের বৃদ্ধা মাকচাঁন বেগম। বিয়ের পর মেয়ে সন্তান হওয়ায় স্বামী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। একমাত্র সন্তানের কথা ভেবে তিনি আর বিয়ে করেননি। তাকে সহায়তা করার মতোও কেউ ছিল না। কোনো উপায় না দেখে ভিক্ষা করে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে শুরু হয় জীবন যুদ্ধ। এক সময় মেয়ে বড় হয়। দরিদ্র ঘরের মেয়েকেও বিয়ে দেন আরেক দরিদ্র পরিবারে। এখন আর আপন বলতে কেউ নেই বৃদ্ধার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার চরইসলামপুর ইউনিয়নের নাজিরাবাড়ি গ্রামে একটি কুঁড়ে ঘরে বসবাস করেন মাকচাঁন বেগম। প্রায় ৭০ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে হেঁটে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

তিনমাস আগে চলারপথে হোঁচট খেয়ে পড়ে পায়ের উরুর হাড় ভেঙ্গে যায়। অপারেশন করতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানান চিকিৎসকরা। অন্ন যোগাতে যেখানে কষ্টকর, সেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো তার জন্য দুঃস্বপ্ন। গ্রামের কবিরাজি চিকিৎসা নিয়ে তিনি বিছানায় কাতরাচ্ছিলেন গত তিনমাস ধরে।

নব্বই বছরের বৃদ্ধা মাকচাঁনের এ করুণ অবস্থার কথা জানতে পারেন জুলফিকার আলী নামের এক ব্যক্তি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন ওই বৃদ্ধার। রোববার (২ মে) দিনগত রাতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মাকচাঁন বেগমের উরুর অপারেশন হয়। অপারেশন শতভাগ সফল হয়েছে বলে জানান ডা. সৈয়দ আরিফুল ইসলাম ও ডা. সোলাইমান মিয়া।

জুলফিকার আলী বলেন, বৃদ্ধার বাড়ি আমাদের পাশের গ্রামে, তাই ছোট ছোট বেলা থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে তাকে দেখেছি গ্রামে গ্রামে হেঁটে ভিক্ষা করতে। সম্প্রতি আমার মামাতো ভাই তার এই করুণ পরিস্থিতির কথা আমাকে জানায়। এ কথা জেনে আমি তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসি।

অর্থোপেডিক সার্জন ডা. সোলাইমান মিয়া বলেন, এই বৃদ্ধার উরুর হাড় দুই টুকরো হয়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত বয়স হওয়ায় তার অপারেশন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তারপরও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ডা. সৈয়দ আরিফুল ইসলামকে সাথে নিয়ে অপারেশন করেছি। তার কোমর থেকে হাড় এবং রড দিয়ে অপারেশনটি করা হয়েছে। অপারেশন শতভাগ সফল হয়েছে। তিনি আবার সম্পূর্ণভাবে হাঁটতে পারবেন।

মাকচাঁন বেগমের একমাত্র মেয়ে সখিনা বেগম বলেন, আমার মায়ের যারা চিকিৎসা করিয়েছেন, তাদের জন্য প্রাণভরে দোয়া করি। আমার পরিবারের এমন অবস্থা নেই যে মায়ের চিকিৎসা করতে পারবেন। আমারও বয়স হয়ে গেছে। সুস্থ হওয়ার পর মা আবারও গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করতে পারবেন।