ব্যবসায়ীকে বিবস্ত্র করে রাস্তায়, চাঁদা ও পরকীয়ার অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক ব্যবসায়ীকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, স্থানীয় কিছু যুবক তার কাছে দাবি করা চাঁদার টাকা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে এক প্রবাসীর স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক হাতেনাতে ধরে ফেলার পর স্থানীয়রা এই কাণ্ড ঘটায়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি থানাপুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে। এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন জনকে।

প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,স্থানীয় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ওই ব্যক্তির অবৈধ সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে তিনি ওই নারীর বাড়িতে যান। সে সময় অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ওই ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের পর বিবস্ত্র করে রাস্তায় ঘোরানো হয়। তাকে উলঙ্গ অবস্থায় হাঁটিয়ে ওই ব্যক্তির ভাইয়ের বাড়ির সামনে থেকে ঘুরিয়ে আনা হয়। যারা ওই ব্যক্তিকে অনৈতিক কাজের অভিযোগে নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘুরিয়েছেন তারা সবাই স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির লোকজন।

মামলা এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, রায়হান নামে এক ব্যক্তির কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে পরিকল্পিতভাবে আসামিরা তাকে আটকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে রাজি না হলে মারপিট করে চাকু দেখিয়ে নগদ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি স্মার্ট ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় জোর করে তার জ্যাকেট, প্যান্ট ও গেঞ্জি খুলে বিবস্ত্র করে রাস্তায় ঘোরায় এবং ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারন করে। পরে আসামিরা তাদের মোবাইলে ধারন করা অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের কথায় সাড়া না দেয়ায় আসামিরা পরস্পরের যোগসাজসে ধারনকৃত অশ্লীল ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় মো. বাক্কারকে প্রধান আসামি করে আরও সাত জনের নাম উল্লেখসহ ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম আলমগীর জাহান জানান, বিবস্ত্র করে ব্যবসায়ীকে ঘোরানোর ভিডিওটি দেখার পরে আমরা বটতলা হাট এলাকায় অভিযান শুরু করি। রোববার ভোরের অভিযানে এজাহার নামীয় তিন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়। এরা এলাকার চিহ্নিত বখাটে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।