মামুনুলকে আরও রিমান্ডে নেয়া হতে পারে যেসব মামলায়

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে আরও ১৮টি মামলায় রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ। একই সঙ্গে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব জুনাইদ আল হাবিবকে আরও ৭টি মামলায় রিমান্ডে নেয়া হতে পারে।

বুধবার (২১ এপ্রিল) রিমান্ডের তৃতীয় দিনে এসব কথা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এদিন রিমান্ডে মামুনুল হক ওয়াজ মাহফিলের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, মামুনুল হককে আরও কয়েকটি মামলায় রিমান্ডে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তার মধ্যে রয়েছে- পল্টন থানার ১০টি, মতিঝিল থানার ৪টি, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার দুটি এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি মামলা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে ১৩টি, ২০২০ সালে একটি এবং ২০২১ সালে ৪টি মামলা রয়েছে।

এদিকে, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সমাবেশের নামে তাণ্ডব, জ্বালাও-পোড়াওয়ের অভিযোগে হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর প্রধান মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবেকে ১৭ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করে ওই মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

বুধবার তার রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষ হয়েছে। তাকে আরও যেসব মামলায় রিমান্ডে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে সেগুলো পল্টন থানার ও ২০১৩ সালের মামলা। যার মধ্যে রয়েছে- ওই বছরের ৬ মে দুটি, ৭ মে চারটি ও ১৫ মে একটি। মামলাগুলোর মধ্যে ৩টিতে তিনি এক নম্বর আসামি। এছাড়া একটিতে তিন নম্বর, একটিতে আট নম্বর এবং অপর একটিতে ১৩ নম্বর আসামি তিনি।

এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কেবল মামুনুল হক বা জুনায়েদ নয়, গ্রেফতার হওয়া সব আসামিকেই সংশ্লিষ্ট সব মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।তিনি বলেন, ঢাকায় হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬৮টি মামলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২০১৩ সালে ৫৩টি, ২০২০ সালে তিনটি এবং চলতি বছর ১২টি মামলা হয়েছে। ৬৮টি মামলার মধ্যে এ পর্যন্ত ৪টিতে (২০১৩ সালের) চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বাকি সব মামলার তদন্ত চলছে।

চলতি বছরের ১২ মামলায় প্রায় ১০ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে মামুনুল, জুনায়েদ, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দি, মাওলানা জালাল উদ্দীন, মুফতি শরীফ উল্লাহ, মুফতি ফখরুল ইসলাম, খুরশিদ আলম কাসেমী, মুফতি শারাফাত হোসাইন, মাওলানা জুবায়ের আহমদ এবং কোরবান আলী কাশেমীসহ অর্ধশতাধিক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।