মেসি বা এমবাপ্পে যার হাতেই কাপ উঠুক, জিতে যাবেন তিনি

আর্জেন্টিনা অথবা ফ্রান্স কে জিতবে এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই ফুটবল ভক্তদের মাঝে। মেসি অথবা এমবাপ্পে যার হাতেই কাপ উঠুক, বিষয়টি আনন্দ-উল্লাসের কারণ হবে বহু মানুষের। আবার, প্রিয় দলকে হেরে জেতে দেখলে মনও ভাঙবে অনেকের। এমন আনন্দ-বিষাদের দোলাচল থেকে পুরোপুরি মুক্ত ফুটবলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একজন মানুষ। তিনি হলেন নাসের আল-খেলাইফি। মেসি অথবা এমবাপ্পে যে-ই জিতুন, জিতে যাবেন নাসের।

কাতারের নাগরিক নাসের আল-খেলাইফি ফরাসি ক্লাব পিএসজির প্রেসিডেন্ট। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে দুজনই তার দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। যোজন যোজন দূর থেকে যারা মেসি অথবা এমবাপ্পের ভক্ত হয়েছেন, তারা হয়তো প্রিয় খেলোয়োড়ের জয়-পরাজয়ে মুষড়ে পড়তে পারেন। তবে মেসি-এমবাপ্পের খুব কাছে থাকা, তাদের সঙ্গে স্বার্থের সুতোয় বাঁধা নাসের কিন্তু দুজনের যে কাউকেই জয়ী দেখতে পেয়ে খুশি হবেন।

ফুটবলকে ভীষণভাবে ভালোবাসেন ও বুঝেন এমন অনেকে মেসি ও এমবাপ্পে দুজনেরই ভক্ত। এরা হয়তো ভাবছেন এমন কেন হলো? মেসি আর এমবাপ্পে দুজন এমন মহারণে মুখোমুখি না হলেই কি হতো না? তবে নাসের আল-খেলাইফি মনে করছেন বিশ্বকাপের ফাইনাল হিসেবে মেসি আর এমবাপ্পের লড়াইটাই সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত।আরএমসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নাসের বলেন, মেসি আর এমবাপ্পের মধ্যে ফাইনাল হচ্ছে, এটাই বিশ্বকাপের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যপট। আমি গর্বিত যে বিশ্বের সেরা দুজন খেলোয়াড় আমার কাছে রয়েছেন এবং তারা আমার দেশের মাটিতে আয়োজিত আসরের ফাইনাল খেলছেন।

কার হাতে কাপ দেখলে বেশি খুশী হবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। আমাদের ক্লাবটা ফ্রান্সের। আমার দ্বিতীয় দেশ ফ্রান্স। তবে মেসির জন্য এটা শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। কিলিয়ান (এমবাপ্পে) পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলছে। এটা দারুণ ব্যাপার। পিএসজির প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার জন্য বিরাট গর্বের বিষয় যে নিজের দুজন খেলোয়াড়ের মধ্যে লড়াই দেখতে যাচ্ছি। সত্যিই তর সইছে না। আমার পক্ষে সম্ভব হলে দুজনের হাতেই কাপ তুলে দিতাম।

পিএসজির আরেক তারকা নেইমার সম্পর্কে তিনি বলেন, ওকে বিদায় নিতে দেখে মন খারাপ হয়েছে। ফুটবল সমর্থক হিসেবে আমি চেয়েছি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল হোক। সবাই তা চাইছিল। কিন্তু সেটা হলো না। ইনজুরি থেকে ফিরে নেইমার সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়েছে। আমি লুই ক্যাম্পোস (পিএসজির ফুটবল উপদেষ্টা) ও ক্রিস্টোফ গালশিয়ারের (কোচ) সঙ্গে কথা বলেছি, কিভাবে নেইমারকে মন খারাপ থেকে টেনে তোলা যায়, তা ভাবতে বলেছি। নেইমার ও তার বাবার সঙ্গেও কথা বলেছি।নাসের আরও বলেন, আমাদের আরেক খেলোয়াড় আশরাফ (হাকিমি) এই বিশ্বকাপে দারুণ রঙ ছড়িয়েছে। তার দল মরক্কো সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে, নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। ওকে নিয়েও আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত।