যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার দায়ে স্বামী আব্দুল্লাহর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় মামলার অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল্লাহ পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পশ্চিম

জামুয়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। নিহত গৃহবধূ রুমানা পারভিন একই গ্রামের (পশ্চিম জামুয়া) রফিকুল ইসলামের মেয়ে।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুর রকিব আর আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এসএম ফরিদ উদ্দিন।মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে অন্তরার সঙ্গে আব্দুল্লাহর বিয়ে হয়। তারা

ভালবেসে একে অপরকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আব্দুল্লাহ তার পরিবারের লোকজনের প্ররোচনায় অন্তরার পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল যৌতুক দাবি করেন। যৌতুক না পেয়ে অন্তরাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন আবদুল্লাহ।২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর রাতে আব্দুল্লাহ যৌতুকের জন্য অন্তরাকে চাপ দেন। অন্তরা যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বীকার জানালে

তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে আব্দুল্লাহ তার বাবার ঘর থেকে বন্দুক এনে অন্তরাকে গুলি করেন। স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় অন্তরার বাবা রফিকুল ইসলাম চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।