সাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে হাঙর

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ করে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে হাঙর। ছয় ইঞ্জি থেকে দেড়ফুট সাইজের এই হাঙরের অধিকাংশ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে গভীর সমুদ্রে। হাঙর শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অধিকাংশ জেলের জালে ধরা পড়া হাঙরগুলো সাগরে ফেলে দিলেও কিছু জেলে সেগুলো নিয়ে আসছে উপকূলে। এ পরিস্থিতিতে কলাপাড়া পায়রা বন্দর কোস্টগার্ডের অভিযানে রাবনাবাদ নদীর মোহনা থেকে এক ট্রলার ভর্তি প্রায় ২০ মন ছোট হাঙর আটক করেছে।

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে আটককরা মৃত হাঙরগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে মাটি চাপা দেয়া হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি শিকারীদের বিরুদ্ধে।মৎস্য কর্মকর্তারা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আটক করা হাঙরগুলো হাতুড়ি বা কোলা প্রজাতির। সাগরে মাছ কমে গেলে অনেক সময় হাঙরের দল সাগরের তলদেশ থেকে খাদ্যের জন্য উপরিভাগে চলে আসে ও জেলেদের জালে ধরা পড়ে।

জেলেরা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, উপকূলীয় বিশাল জলসীমায় প্রতিবছর প্রচুর পরিমানে হাঙর শিকার করা হয়। শীত মেীসুমে মূলত হাঙর বেশি ধরা পড়ে। জেলেদের জালে ধরা পড়া হাঙর বিভিন্ন শুটকি পল্লীতে বিক্রি করে দেয়া হয়। যা শুটকি করে বিদেশেও রপ্তানী করা হয়। তবে বন বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের হাঙর শিকার বন্ধে প্রচারণা ও শাস্তির বিষয়টি জেলেদের কাছে প্রচার না করায় গভীর সমুদ্রে অহরহ শিকার করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির হাঙর।

জানা গেছে, কলাপাড়ায় ধরা পড়া হাঙরগুলো মসৃন হাতুড়ি প্রজাতির হাঙ্গর। যেটি বাংলাদেশের ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকায় তফসিল-১ অনুযায়ী সংরক্ষিত। এগুলো প্রায় তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত বড় হয় বলে জানা যায়।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, কয়েকদিন প্রচন্ড তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে সাগরের তলদেশে আবহাওয়ার বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় হঠাৎ করে গভীর সমুদ্র থেকে সাগরের উপরিভাগে হাঙরগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে বলে ধারণা করছি। তবে এভাবে হাঙরগুলো মারা পড়ছে সমুদ্রে খাদ্যশৃঙ্খলে বিরুপ প্রভাব পড়তে বলে।

স্কুল ছাত্র তাহমিদ হাসান ও সিরাজুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, পাঠ্যবইয়ে হাঙরের ছবির সাথে এগুলো মেলাতে পারছি না। হাঙরতো অনেক বড় হয়। অথচ ধরা পড়া হাঙরগুলো খুবই ছোট। এভাবে ছোট হাঙর মারা পড়লে প্রকৃতিতে বিরুপ প্রভাব পড়বে বলে মনে হচ্ছে।

এই হাঙরসহ ধরা পড়া ট্রলারের মাঝি মো. মুসা ও জেলে রাব্বি দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, তারা সাগরে ইলিশের জাল পাতলেও তাতে ধরা পড়ছে হাঙর। কী কারণে এতো হাঙর ধরা পড়ছে তারা তা জানেন না। এগুলো বিক্রির জন্য মহিপুর মৎস্য বন্দরে নেয়ার পথে কোস্টগার্ড তাদের আটক করে। তবে এগুলো ধরা অবৈধ কী-না তাও জানেন না।

পায়রা বন্দর কোষ্টগার্ডের পেটি অফিসার বেলায়েত হোসেন খান দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পায়রাবন্দর রাবনাবাদ চ্যানেল থেকে ট্রলারসহ ওই বিপুল পরিমান হাঙর আটক করা হয়। যেহেতু হাঙর শিকার নিষিদ্ধ তাই হাঙরগুলো শুক্রবার বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।কলাপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, যেহেতু অনিচ্ছাকৃতভাবে জালে হাঙর ধরা পড়েছে তাই জেলেসহ ট্রলারটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আটক করা হাঙর পুড়িয়ে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে বলে জানান।