সীমান্ত বন্ধের প্রথম দিনেই ভারতীয় গম ও পাথরের বড় চালান

ভারতের করোনা ভ্যারিয়েন্ট মোকবেলায় বন্ধ রাখা হয়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার। করোনার প্রথম ঢেউ থেকেই এ চেকপোস্টটি বন্ধ রাখা হয়। তবে এ চেকপোস্ট দিয়ে রেল বন্দরের মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রপ্তানী স্বাভাবিক রয়েছে।এক্ষেত্রে পূর্বের সতর্কতা ছাড়া বিশেষ কোন সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে বিশেষ কোন সতর্কতা কিংবা নির্দেশনা এখনো জারি হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এদিকে গত বছর দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ঐ বছরের ২৬ মার্চ থেকে দর্শনা আন্তর্জাতিক স্থল পথে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।

অল্প কিছুদিন দর্শনা বন্দর বন্ধ থাকার পর ফের ভারত থেকে জরুরি খাদ্য চাল, গম ও পেয়াজের বড় বড় চালান সহ অন্যান্য পণ্য আমদানি শুরু হয়। সরকার এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ভারত থেকে ৮২হাজার ১শ মেট্রিক টন চাল আমদানি করেছে।

দু’দেশের সীমান্ত বন্ধ থাকলেও আজ সোমবার (২৬ এপ্রিল) ভারত থেকে ২৩শ মেট্রিক টন গম ও ২২শ মেট্রিক টন (ষ্টোন) পাথর দর্শনা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। সে ক্ষেত্রে পুর্ব নির্ধারিত অর্থাৎ করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় যে স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা ছিল, সে ভাবেই চলছে দর্শনা আন্তর্জাতিক এই রেল বন্দরটি।

দর্শনা বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও সি এন্ড এফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান হাবু জানান দর্শনা সীমান্ত থেকে মাত্র দেড় দুই কিলোমিটার ভারত, এ জন্য আমরাও ঝুকিমুক্ত নই এ জন্য এই ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। বিশেষ করে বন্দর গুলোতে সতর্কতা জারি করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ষ্টেশন মাষ্টার মীর লিয়াকত আলি জানান ভারত থেকে আজ সোমবার মালবাহী ২টি র‌্যাক দর্শনা বন্দরে ঢুকেছে এবং মালামাল আমদানি করার পর ট্রেনে চালক গার্ড সহ ৩ জন ব্যক্তি থাকেন। তাদের মধ্যে একজন নেমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাগজ পত্রের কাজ শেষে পুনরায় দেশে ফিরে যান। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনের সাথে দর্শনা বন্দরে যে সব শ্রমিক বা অন্যরা কাজ করে থাকে তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও করোনার প্রথম ডোজটিকা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডাঃ এএসএম মারুফ হাসান মুঠোফোনে জানান, করোনার শুরু থেকেই দর্শনা চেকপোস্টে মেডিকেল টিমসহ অস্থানীয় ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে করোনা সতর্কতায় নিয়মিতভাবে চেকআপ করা হয়। তবে ভারতে করোনার ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে দর্শনা চেকপোস্ট বন্ধ থাকায় তেমন কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, করোনার শুরু থেকেই দর্শনা চেকপোষ্টটি বন্ধ, এ কারনে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার পত্র বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে দর্শনা বন্দরে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আগের নিয়মেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করা হচ্ছে।