সেই ইফতার পার্টিই কাল হলো মুনিয়ার!

রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের এক কলেজছাত্রীর ঝু’ল’ন্ত ম’রদে’হ উ’দ্ধার করেছে পু’লিশ। সোমবার রাতে গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার ম’রদে’হটি উ’দ্ধার করা হয়।

এ ঘ’টনার পর সোমবার রাত দেড়টার দিকে গুলশান থা’নায় একটি মা’ম’লা দা’য়ের করেন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান। মা’মলা করে থা’না থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় গ’ণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হননি তারা। ঢাকার একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশুনা করতেন কুমিল্লার মেয়ে মোসারাত জাহান মুনিয়া। রাজধানীর গুলশানের ১২০ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে গেল মাসের ১ তারিখে ভাড়া আসেন মোসারাত মুনিয়া।

প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে ওই বাসায় একাই থাকতেন কলেজছাত্রী মুনিয়া। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ওই ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া এক লাখ টাকা। এবং অগ্রিম দেয়া হয়েছে দুই লাখ টাকা। এরই মধ্যে দুই মাসের ভাড়া পরিশো’ধ করা হয়েছে। সোমবার রাতে খবর পেয়ে পু’লিশ বাইরে থেকে দরজার তালা খুলে তার লা’শ সিলিং ফ্যানের স’ঙ্গে ঝু’ল’ন্ত অবস্থায় পায়।

নি’হ’ত মুনিয়ার ম’রদে’হ সু’রত’হালের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। ঘ’ট’না ত’দন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পু’লি’শের। গু’লশান থা’নার ভারপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) আবুল হাসান জানিয়েছেন, ওই ত’রুণী ফ্ল্যাটটিতে একাই থাকতেন।সোমবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা থেকে তার বোন এসে দরজা ব’ন্ধ পান। তিনি মুনিয়াকে ফোন দিলেও রিসিভড করছিলেন না।

এরপর পু’লিশকে খবর দিলে রাতে বাইরে থেকে দরজার তালা খু’লে তার লা’শ উ’দ্ধার করা হয়। ম’লার বি’বরণী থেকে জানা গেছে, মে’য়েটির স’ঙ্গে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমডির সম্পর্ক দুই বছরের। এমডি এক বছর মে’য়েটিকে বনানীর ফ্ল্যাটে রাখেন। পরে মনোমালিন্য হলে মেয়েটি কুমিল্লায় চলে যায়। তবে মার্চ মাসে ঢাকায় এসে গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেন।

তিনি বলেন, ২৩ এপ্রিল একটি ইফতার পার্টি হয় ওই বাসায়। ওই পার্টির ছবি ফেসবুকে আপলোড করা হলে মে’য়েটির স’ঙ্গে ওই এমডির মনোমা’লিন্য হয়। পরে মেয়েটি তার বোনকে ফোন করে জানান, যেকোনো মুহূর্তে তার যেকোনো ঘ’টনা ঘ’টতে পারে।ওসি বলেন, ‌‘প্রাথমিকভাবে গ’লায় ফাঁ’স দি’য়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ম’য়নাত’দন্তের আগে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে না।’ নি’হ’তে’র স্বজনের বরাতে পু’লিশ জানায়, মুনিয়া তার বড় বোনকে ফোন করে বলেছিলেন ঝা’মে’লায় পড়েছেন।

এ কথা শুনে তার বোন সোমবার কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে সন্ধ্যার দিকে ওই ফ্ল্যাটে যান। দরজায় ধা’ক্কাধা’ক্কি করলেও বোন দরজা খুলছিলেন না। এরও কিছুক্ষণ আগে থেকে তিনি মুনিয়ার ফোন ব’ন্ধ পাচ্ছিলেন। পু’লিশের গুলশান জোনের একজন কর্মক’র্তা বলেছেন, তারা ভবনটির সিসি ক্যামে’রার ফুটেজ এবং মুনি’য়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসহ ডিজিটাল ডিভাইসগুলো জ’ব্দ করেছেন। এগুলো যাচাই করে তারপর সব বলা যাবে।

এর আগে পু’লিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী গ’ণমাধ্যমকে জানান, মোসারাত জাহানের বাড়ি কুমিল্লা শহরের বীর মু’ক্তিযো’দ্ধা শফিকুর রহমানের মেয়ে। তার প’রিবার কুমিল্লায় থাকলেও মুনিয়া একাই ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। সুদীপ কুমার আরও জানান, দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় শিল্প গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স’ঙ্গে মোসারাত জাহানের প’রিচয় ছিল। ওই ফ্ল্যাটে তার যাতায়াতের বিষয়েও ত’থ্য পাওয়া গেছে।